ধর্মীয় গুরু উচহ্লা ভান্তে কর্তৃক জবরদখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবীতে বান্দরবানে সাংবাদিক সম্মেলন

প্রকাশিত: ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে রামজাদীর প্রতিষ্ঠাতা বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উচহ্লা ভান্তের বিরুদ্ধে খ্রীষ্টান ক্যাথলিক মিশনসহ ২০ জনের নামীয় একশ একর বিভিন্ন শ্রেণীর জমি দখলের অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা।

আজ বুধবার দুপুরে বান্দরবান শহরের রিস্বংসং রেষ্টুরেন্টে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এমন অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভূক্তভোগী বান্দরবান ফাতিমা রাণী ক্যাথলিক মিশন গীর্জার ফাদার জেরোম ডি’রোজারিও, বান্দরবান বোমাং সার্কেলের মৌজা হেডম্যান রাজপুত্র নুমংপ্রু, জেলা বড়ুয়া কল্যান সমিতির প্রেসিডেন্ট দিলীপ বড়ুয়া, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ফিলিপ ত্রিপুরা, আমেনা বেগম প্রমুখ। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে ভূক্তভোগী পরিবারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফাদার জরোম ডি’রোজারিও অভিযোগ করে বলেন, উচহ্লা ভান্তে একজন ধর্মীয় গুরু। তারপরও তিনি কিভাবে আরেকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়, বিষয়টি আমার বোধগম্য হয়না। ক্যাথলিক মিশনের ৫.৫৭ একর জমিগুলো উচহ্লা ভান্তের পিতার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল। এই জায়গা থেকে উৎপাদিত ধান দিয়ে চলতো মিশনের শিশুদের খাওয়া দাওয়া। কিন্তু ২০১৪ সালে রাতের আধাঁরে জায়গাগুলো দখল করে নেয়া হয়। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

হেডম্যান ও রাজপুত্র নুমংপ্রু বলেন, আমার পিতা প্রয়াত রাজা মংশৈপ্রু চৌধুরীর আমল থেকেই জায়গাটি আমাদের দখলে ছিলো। ৮ একর জায়গায় আমাদের ধানের চাষাবাদ ছিলো। কিন্তু গভীরাতে জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছেন উচহ্লা ভান্তে। শুধু আমার জমি নয়, পাশ্ববর্তী ২০ জনের নামীয় প্রায় একশ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন তিনি। আমরা জমি ফিরে পেতে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।

জেলা বড়ুয়া কল্যান সমিতির প্রেসিডেন্ট দিলীপ বড়ুয়া বলেন, রামজাদীর প্রতিষ্ঠাতা উচহ্লা ভান্তে একজন বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু। ধর্মীয় নেতা হিসাবে আমরা তাকে সম্মান করি। কিন্তু ধর্মীয় নেতার হওয়ার পরও তিনি বড়ুয়া সমিতিসহ ২০ জন/প্রতিষ্ঠানের নামীয় জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। যে কারণে তার সঙ্গে নিজের ধর্মের লোকজনের বিরোধ চলছে। ইতিপূর্বে উক্ত জায়গায় ১৪৪ ধারা বলবৎ ছিলো। কিন্তু তিনি সেটিও অমান্য করেছেন। উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপরও হামলা চালায় তার অনুসারীরা। বিষয়গুলো নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

ডিএ/আশা/কেএম