বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন

ষষ্ঠদিনের মত লকডাউন চলছে বান্দরবান, সংক্রমণরোধে এলাকা ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা চালুর দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক।
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০
  • ১৭৩ পাঠক সংখ্যা
রেড জোন ঘোষিত বান্দরবানে লকডাউনেও থেমে নেই মানুষের ছুটেচলা। ছবিটি জেলা শহরের হিলবার্ড মোড় থেকে তোলা।

রেড জোন ঘোষিত বান্দরবান পৌরসভা, সদর ও রুমা উপজেলা তিনটি স্থানে ষষ্ঠদিনের মত লকডাউন চলছে। গণপরিবহন, হাট-বাজার বন্ধ থাকায় অনেকটায় ফাঁকা রাস্তা-ঘাট। তবে পাড়া মহল্লা এবং রাস্তা-ঘাটে মোড়ে মোড়ে আড্ডা, এলোমেলো ঘুরাফেরা বন্ধে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।

আজ সোমবার শনাক্ত হয়েছে একই পরিবারের তিন জন’সহ আরও ৪ জন। তাদের মধ্যে দুজন শিশু। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্ত ৮৪ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ২ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। আক্রান্তের মধ্যে সদরে ৪৮ জন এবং রুমায় ৬ জন।

এদিকে লকডাউন এলাকাগুলো ঘুরে দেখাগেছে, ফাঁকা রাস্তা-ঘাট এবং হাট-বাজারে শুধুই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান। সেনাবাহিনী কয়েকটি পেট্টোল টিম বিভক্ত হয়ে গাড়ী নিয়ে মহড়া দিচ্ছে লকডাউন এলাকায়। জটলা দেখলেই গাড়ী থেকে নেমে ধাওয়া দিচ্ছেন মানুষদের। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটেরে নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্ট টিমও মাঠে রয়েছে লকডাউন পরিস্থিতি মোকাবেলায়। তবে যথারীতি খোলা রয়েছে ওষুধের দোকান। স্বাভাবিক রয়েছে পণ্যবাহি যানবাহন চলাচলও। তবে সপ্তাহে দুদিন রোববার ও বৃহস্পতিবার মুদি দোকান এবং মাছ-মাংস ও সবজি বাজার খুলে দেয়ায় হাট-বাজারের হাজারো মানুষের ঢল নামে। ফলে মানুষের অসচেতনতায় লকডাউনের সফলতা ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে অভিযোগ সুশীল সমাজের।

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আইনজীবি আবু জাফর দেশ অরণ্যকে বলেন, করোনা সংক্রমণ রুখতে এলাকা ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। সপ্তাহের একেকটা দিন একেক এলাকায় দোকান, হাট-বাজার খোলা রাখা হলে মানুষের ভীড় কমবে। সংক্রমণও একটি এলাকা থেকে আরেকটি এলাকায় ছড়ানো অনেকাংশে রোধ হবে।

এছাড়াও স্বল্প সময় বেধে দেয়ায় ভীড়ও বাড়ছে। উদ্যোগ নেয়া না হলে সপ্তাহের খুলে দেয়া দুই দিনেই লকডাউনের পাঁচদিনের অর্জন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। বিভিন্ন এলাকার মানুষজন একসঙ্গে হাট-বাজারে মিলিত হওয়ার ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে আরও নতুন নতুন এলাকায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দেশ অরণ্যকে বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। এলাকা ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা চালু করার দাবীটি যৌক্তিক হলেও বাস্তবায়ন অনেক কঠিন। এত জনবল আর সার্বক্ষনিক বাজার মনিটরিং করাও সহজ নয়। বন্ধ রাখলে বলা হচ্ছে মানুষ না খেয়ে মরবে, খুলে দেয়ায় বলা হচ্ছে সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের সমালোচনা হচ্ছে, কিন্তু মানুষতো সচেতন হচ্ছেনা।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা: অংসুই প্রু মারমা দেশ অরণ্যকে বলেন, সংক্রমন রোধে প্রয়োজন মানুষের জনসচেতনতা। কঠোর বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা। লকডাউন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। যাতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন একটি এলাকা থেকে আরেকটি নতুন এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ
error: