শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রামগড়ে ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট শাখার উদ্বোধন রাজস্থলীতে ভাঙা সেফটি ট্যাংকিতে দূর্ঘটনার আশঙ্কা চন্দ্রঘোনায় শিক্ষা উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতবিনিময় রাজস্থলীতে কোকোর জন্মদিনে ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল লামায় বন্য হাতির তান্ডবে ব্যাপক ফসলের ক্ষেত, জুমচাষ ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি রাঙ্গামাটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টুকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত অস্বাভাবিক হারে নানিয়ারচরে বাড়ল কাঁচা মরিচের দাম লাকসামে একসাথে ৫ সন্তানের জন্মদান রাঙামাটির দূর্গম পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সামগ্রী দিলেন স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা কাউখালী থানার ওসিকে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিলো আদালত

লামায় পাহাড়ের ঢালুতে সবজি চাষে বিপ্লব; স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছে দেড় শতাধিক কৃষক

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান)
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০
  • ১৭০ পাঠক সংখ্যা
লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বদরটিলার বিস্তৃর্ণ পাহাড়ে গড়ে উঠেছে সবজি খামার।

লামা উপজেলার ফাইতং বদরটিলা এলাকায় ১২০ একর অনাবাদি পাহাড়ের ঢালু জমিতে বেগুন সহ মিশ্র সবজি চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আবুল হাসেম সহ দেড় শতাধিক কৃষক। ৮০ শতক (২ কানি) জমিতে বেগুন, শশা, মিষ্টি কুমড়া, তিতকরলা, মরিচ, চিনার ও ঝিংগা চাষে ৬৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে দেড় থেকে ২ লাখ টাকার সবজি বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন তিনি। আবুল হাসেম পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলাম নগর এলাকার মৃত সেকান্দর আলী ছেলে।

আবুল হাসেম জানান, সে সহ চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১৫০ জন কৃষক দলবদ্ধ হয়ে একইভাবে ফাইতং বদরটিলা এলাকায় অনাবাদি পাহাড়ি ঢালু জমিতে সবজি চাষ শুরু করেছে। বর্তমানে এই এলাকাকে মানুষ আদর্শ সবজি খামার এলাকা হিসেবে ভালো চিনে। ইতিমধ্যে সবজি ক্ষেত থেকে নানা ধরনের সবজি উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আড়তদার, ব্যবসায়ীরা এসে বদরটিলা এলাকা হতে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষেত থেকে তরতাজা সবজি তুলে ক্ষেতে রেখেই বিক্রি করে নগদ টাকা গুণছে কৃষকরা। ৩/৪ মাস সময়ের ব্যবধানে তারা মূলধনের দুই থেকে তিন গুণ টাকা লাভ করছে।

বেগুন গাছে বেগুনি ফুলে মৌ মৌ করছে চারপাশ।

বদরটিলায় চাষাবাদ করেন এমন আরো কয়েকজন কৃষক হলেন মাহবুবুল আলম, নুরুল আবচার ও মোঃ হেলাল। তারা বলেন, পাহাড়ি জমি হওয়ায় জমির খাজনা খুব কম। ২ কানি জমির খাজনা বছরে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। আর পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে অনেকাংশে নিরাপদ। মাটি উর্বর হওয়ায় সমতল জমির মত কীটনাশক ও সার ব্যবহার করতে হয়না। সবজি চাষে আমরা নিজেরাও শ্রম দিই। বিশেষ করে বর্ষাকালীন সময়ে এই পাহাড়ে চাষাবাদ হয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে আমরা আমাদের এলাকায় সমতল জমিতে চাষাবাদ করি। বর্ষা এলে সমতল জমি পানির নিচে ডুবে থাকায় আমরা বেকার হয়ে যেতাম। গত ২/৩ বছর থেকে বর্ষাকালে পাহাড়ে চাষাবাদ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের দারিদ্রতা মুছে সবাই স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছি।

কৃষক মোঃ হেলাল বলেন, সবজি ক্ষেত থেকে সবেমাত্র ফসল তোলা শুরু হয়েছে। এখন প্রতিদিন বদরটিলা এলাকা হতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৬/৭ টন সবজি সরবরাহ হচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েক পরে পুরোপুরি ফলন আসা শুরু হলে, তখন প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ টন সবজি এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবে। ব্যবসায়ীরা নিজেরা এখানে এসে সবজি ক্রয় করে। এখানে সবচেয়ে বেশী চাষ হয় বেগুন। এখানের বেগুন বিখ্যাত। এছাড়া ঢেঁড়শ, লাউ, বরবটি, তিতকরলা, কাঁকরোল, মিষ্টি কুমড়া, শশা, কলা, চিনার, গুনচি, মরিচ, ঝিংগা, চিচিঙ্গা চাষ হয়। আমরা কীটনাশকের ব্যবহার কম করে প্রাকৃতিক জৈব সার ব্যবহার বেশী করছি।

লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বদরটিলার বিস্তৃর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে আদর্শ সবজি খামার।

পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলা হতে বদরটিলা এলাকায় সবজি ক্রয় করতে আসেন পাইকারী ব্যবসায়ী মোঃ আলমগীর। সবজি খামার পরিদর্শনে সরজমিনে গেলে তার সাথে দেখা হয়। তিনি বলেন, আজকে আমি প্রায় ৫ হাজার কেজি বেগুন ও ১ হাজার কেজি শশা ক্রয় করেছি। প্রতি কেজি বেগুন পাইকারী ২৫-৩০ টাকা ও শশা প্রতি কেজি ২০ টাকা করে ক্রয় করেছি। এবার বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় চাষীরা লাভবান হবেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ফাইতং বদরটিলা এলাকায় চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দেড়শত কৃষক প্রায় ১২০ একর পাহাড়ে কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছে আদর্শ সবজি খামারের। এতে করে দেড় থেকে দুই হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই জমি থেকে বেগুন সহ নানা প্রজাতির সবজি সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে কৃষকরা।

সবজি খামার থেকে ব্যবসায়ীরা সবজি ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার থোয়াইহ্লা চিং মার্মা বলেন, এলাকার সবজির চাহিদা মিটিয়ে ফাইতং বদরটিলা এলাকার সবজি ও শাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। তাদের দেখে স্থানীয়রাও সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছে। আমরাও সবাইকে ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে ফিরে সবজি চাষে ঝুঁকতে পরামর্শ দিচ্ছি। আদর্শ সবজি খামারের সাফল্য দেখে অনেকেই অবাক।

লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সানজিদা বিনতে সালাম বলেন, কিছুদিন আগে বিষয়টা আমি জানতে পেরে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুকুমার দেওয়ারজি কে বদরটিলা এলাকায় সবজি খামার পরিদর্শনে পাঠাই। তিনি পরিদর্শন করে তাদের নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করেছে। আমাদের ফলোআপ ও কারিগরি সহযোগিতা সবসময় থাকবে তাদের জন্য। পাহাড়ের ঢালুতে কৃষকরা সবজি চাষ করে যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন তা সত্যিই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বেগুনি ফুলে মৌ মৌ করছে চারপাশ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ
error: