বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

রোয়াংছড়ির কয়েকটি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, পান করছে নদীর পানি

কিকিউ মারমা, বান্দরবান।
  • আপডেট সময় সোমবার, ১১ মে, ২০২০
  • ৩৫১ পাঠক সংখ্যা

বান্দরবানে রোয়াংছড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বড়শিলা পাড়া এলাকায় ৬৫টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানি সংকটে দিনাতিপাত করছে। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। পাড়াবাসীরা বাধ্য হয়ে পান করছেন নদীর পানি। এতে বছরে অধিকাংশ সময় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হয় তাদের।

স্থানীয়রা জানান, পাড়া ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে সাঙ্গু নদী। এ নদী ছাড়া আর কোনো বিকল্প পানির উৎস নেই এখানে। একসময় ঝিরি ও ছড়ার পানি কিছুটা বিশুদ্ধ থাকলেও সেগুলোও শুকিয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে খেতে হয় নদীর পানি। তাছাড়া বর্ষাকালেও নদীর পানি সবসময় ঘোলা থাকে। যা ব্যবহার একেবারে অনুপযোগী। যার কারনে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি জেনেও বাধ্য হয়ে এ পানি ব্যবহার করছেন তারা।

তবে জিএফএস লাইনের মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য কয়েক কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী দুই কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ঘেরাউ পাড়ায় জিএফএস এর মাধ্যমে সুপেয় পানি পাচ্ছে গ্রামবাসী। তবে বড়শিলা পাড়ায় এখনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করছেন গ্রামবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুব ভোরে উজান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা না আসার আগে তাদের নিত্যদিনের ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করে রাখছেন নারীরা। বৃষ্টিতে অনেক সময় নদীর পানি ঘোলা হওয়ায় নদীর চরে ছোট ছোট গর্ত করছেন কেউ কেউ।

মাসিংনু মারমা নামে পাড়ার এক মহিলা জানান, গর্তে জমানো পানি একটু পরিষ্কার হয়। তবে পানি জমতে সময় লাগে। এভাবে পানি সংগ্রহ করে পান করছে পাড়ার সবাই।

রড়শিলা পাড়া গ্রামবাসী উসিথোয়াই মারমা বলেন, আমরা সারাবছর সাঙ্গু নদীর পানি পান করে থাকি। তবে বর্ষাকালে খুব কষ্ট হয় আমাদের। উজান থেকে নেমে আসা ঘোলা পানি ব্যবহার করতে হয় গ্রামবাসীদের। এতে প্রায়ই ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

পাড়ায় কয়েকটি গভীর নলকূপ বসানোর ব্যবস্থা করা হলে বিশুদ্ধ পানি সংকট কেটে যাবে বলেও জানান তিনি।

অংমেউ মারমা বলেন, সকালে নদীতে একটি মরা কুকুর ভাসছিল। পানি সংগ্রহ করতে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়েছিল। আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলের কারণে পানিতে তেল পড়ে পানি নোংরা হয়ে যায়।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, প্রতিনিয়ত পাথর উত্তোলন ও পাহাড়ে গাছ নিধনের ফলে পানির উৎসগুলো দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পানির ভূ-গর্ভস্থ নিচে নেমে যায়। পাহাড়ী অঞ্চলে ৩০ শতাংশ পাথরিয়া ভূমি। যে কোনো স্থানে রিংওয়েল কিংবা গভীর নলকূপ বসানোও যায় না।

ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি সরবরাহের মাধ্যমে এই সংকট উত্তরণ হতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ
error: