বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

মামলা করতে গিয়ে টাকা তো লাগলই না, বরং উল্টো গাড়িভাড়া দিল পুলিশ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান)
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৭ মে, ২০২০
  • ৬৯৮ পাঠক সংখ্যা
ভিকটিমের বসতবাড়ি ও ইনসেটে ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

ধর্ষিতা মেয়ের বিচারের দাবীতে থানায় মামলা করতে আসলেন এক দরিদ্র মা। মায়ের মুখের বর্ণনা শুনে দ্রুত মামলা নিল পুলিশ। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময়ে খেয়াল করলেন নিজের কাছে গাড়ি ভাড়া নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা দিল লামা থানা পুলিশ !

গত ৭ মে ২০২০ইং বৃহস্পতিবার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর এলাকায় ৬ষ্ট শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়। ১২ মে ২০২০ইং মঙ্গলবার বিচারের দাবীতে ভিকটিমের মা ও অভিভাবকরা লামা থানায় আসে। পরিবারটি খুবই দরিদ্র।

মানবিক হৃদয়ের অধিকারী লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

লামা থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি আমলে নিয়ে সাথে সাথে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রেকর্ড করে। মামলা নং- ০৩, তারিখ- ১৩ মে ২০২০ইং।

মামলা রেকর্ড করা শেষে লামা থানা পুলিশের এসআই মো. শাহীন ভিকটিমের মা কে বললেন বাড়ি যান। মহিলাটির মুখের মলিনতা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন বাড়ি ফেরার গাড়ি ভাড়া আছে তো ? দুইবার জিজ্ঞাসা করার পর মাথাটা নিচু করে অসহায় ‘মা’ জানালো টাকা নেই। তখনই লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নির্দেশে ঐ পুলিশ অফিসার মো. শাহীন নিজের পকেট থেকে ভিকটিমের মাকে ৫০০ টাকা ও মামলার তদন্তকারী অফিসার শরীকুল ইসলাম দিলেন ৫০ টাকা। সর্বমোট ৫৫০ টাকা।

এদিকে এই সংবাদের প্রতিবেদক ২৭ মে ২০২০ইং বুধবার সকালে ধর্ষণের বিষয়টির আপডেট জানতে ভিকটিমের বাড়ি যান। বাড়িতে গেলে ঐ মহিলা সাথে কথা হয়। তিনি জানালেন এতদিন জানতাম থানায় মামলা করতে গেলে টাকা দিতে হয়। আর আজকে দেখলাম তার বিপরীত। মামলা করতে গিয়ে টাকা তো লাগলই না, বরং উল্টো গাড়িভাড়া দিল পুলিশ।

বিষয়টি জানার পর আসলেই ভালো লাগল এই প্রতিবেদকের। এখন পুলিশ আগের চেয়ে মানবিক ও জনগণের বন্ধু। বিষয়টি বিশ্বাস করতে শুরু করেছে মন। ধন্যবাদ মানবিক হৃদয়ের অধিকারী লামা থানার সকল পুলিশকে। ভিকটিমের সাথে কথা না হলে, হয়ত বিষয়টি থেকে যেত অন্তরালে। এমন অন্তরালে থাকা হাজারও ভালো কাজের জন্য পুলিশকে স্যালুট জানাই।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ
error: