বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন

বিলাইছড়িতে রবি মৌসুমে ধানচাষে আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন না কৃষকরা

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, প্রতিনিধি, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি)।
  • আপডেট সময় শনিবার, ৯ মে, ২০২০
  • ২৫৫ পাঠক সংখ্যা
রোগাক্রান্ত ক্ষেতের দৃশ্য

. ধান রোপনের পর থেকে কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা এলাকায় না যাওয়ার অভিযোগ স্থানীয় কৃষদের

. ইউনিয়নে শুভমঙ্গল চেয়ারম্যানে সময়ে কেরনছড়িস্থ ১ টি ড্রেন করা হলেও বর্তমানে তা প্রায় পলির কারণে মাটির নীচে ডেবে গেছে

. ‘জমিগুলো কৃষিবান্ধব করতে হলে পয়োজন পরিকলাপনা অনুযায়ী বেশ কয়েকটি পাকা ড্রেন, সেচ-নালা ও কৃষিযন্ত্রপাতি’

বিলাইছড়ি উপজেলার রবি মৌসুমে ফ্রিঞ্জল্যান্ড বা জলেভাসা জমিতে শুরুতে অনাবৃষ্টি ও সেচ ব্যবস্থা না থাকার কারনে ধানচাষে সুবিধা করতে পারছেনা কৃষকরা। এতে অসহায় ও হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩নং ফারুয়া ও ৪ নং বড়থলিতে বর্ষা মৌসুমে জুম ও জমিতে ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হলেও সেখানে চাইন্দ্যা ও আলেখ্যং এলাকা বাদে বাকী অন্য তেমন কোন এলাকায় জলেভাসা জমি নেই এবং ২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়নে ১,২,ও ৩ নং ওর্য়াড বাদে বাকী প্রায় সব ওয়ার্ডের জলেভাসা জমি রয়েছে। উক্ত ইউনিয়নে শুভমঙ্গল চেয়ারম্যানে সময়ে কেরনছড়িস্থ ১ টি ড্রেন করা হলেও বর্তমানে তা প্রায় পলির কারনে মাটির নীচে ডেবে গেছে।

অন্যদিকে বেশীরভাগ জলেভাসা ধান্যজমি রয়েছে ১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়নে এজন্য এ ইউনিয়নে সবকটি ওর্য়াডে জলেভাসা জমি থাকলেও বেশীরভাগ জমি রয়েছে কুতুবদিয়া মৌজায়। লক্ষ্যনীয় যে, মেশিন ও জনবল দিয়ে যারা ধান চাষ করেছেন তারা কিছুতা ফলনের আশা করলেও, বেশিরভাগ কৃষক য়ারা অথের্র অভাবে এমনিতে নিজে নিজে চাষ করেছেন তারা একেবারে নিরাশা ও হতাশায় ভুগছেন।

বেশীরভাগ কৃষকের জমিতে সেচের ব্যবস্থা মোটেও না থাকার কারনে চৈত্র মাসে গরমে লাল হয়ে মরে যাচ্ছে এবং বেড়ে ওঠছেনা ধানগাছগুলো। বেশী আগাছার কারনে আগাছা তুলতে জনবল দিতে না পারায় মন মানসিকতা খারাপ করে জমি থেকে সরে এসেছেন কুতুবদিয়া গ্রামের দ্ররিদ্র কৃষক উল্লুক্যা তঞ্চঙ্গ্যা , বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা ও সুকান্ত তঞ্চঙ্গ্যা সহ অনেকে।

আরো লক্ষ্য করা গেছে, যেসব ধানগুলো বের হচ্ছে সে ধানগুলো মুঁছড়ে যাচ্ছে এবং ছিড়ামড়া ও ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। সুবাস তঞ্চঙ্গ্যা, বিসুক্যা তঞ্চঙ্গ্যা, ভাসাইয়া তঞ্চঙ্গ্যাসহ প্রায় কৃষকের ধান্যজমিতে এ রোগের কারণে গত বছরে তুলনায় এ বছরে আশানুরুপ ফলন পাবেনা বলে জানিয়েছেন তারা। তারা আরো জানিয়েছেন, ধান রোপনের পর থেকে কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা এ পর্যন্ত একবারও আমাদের জমি দেখতে আসেনি।

পানি সেচের ব্যবস্থা না থাকায় অনাবাদী জমির একাংশ

এব্যাপারে কুতুবদিয়া গ্রামের গ্রামপ্রধান সুশীল কার্বারী জানান, সঠিকভাবে কৃষি অফিস ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে হয়ে উঠতে পারে বিলাইছড়ি একটি কৃষি প্রধান উপজেলা হিসেবে।

তিনি আরো বলেন, বিলাইছড়ি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী ধান্যজমি রয়েছে। কুতুবদিয়া মৌজার কাপ্তাই বাঁধ হওয়ার ফলে পানি আসার পর এযাবৎ বিলাইছড়ি ইউনিয়নে অভিলাষ চেয়ারম্যানের সময়ে সবে মাত্র ১টি ড্রেন হলেও তা প্রায় পলির কারনে বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়াও জমি পরিমানের তুলনায় সামান্য এবং যথেষ্ট নয়। এখানে জমিগুলো কৃষিবান্ধব করতে হলে প্রয়োজন অবশ্যই পরিকল্পনা মোতাবেক বেশ কয়েকটি পাকা ড্রেন-নালাসহ ,পায়োজনীয় কৃষি যন্ত্রপাতি।

২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার ভুবনজয় চাকমা ও আমতলা রাজধন ছড়ার মিলন শংকর চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তাদের এলাকার ভালাছড়ি, বাঙ্গালটা ও রজধনছড়া এলাকায় অনেকের ধান্যজমিতে ছিড়ামড়া রোগ ও ব্লাস্টরোগে ফলন পাবেন না বলে জানিয়েছেন। তারাও জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধান্যজমি দেখতে না আসার বিষয়টি।

এ বিষয়ে আরো বিলাইছড়ি উপজেলার কৃষি কর্মর্কতা মেজবাহ উদ্দিনের মুঠোফোনে কথা বললে তিনি দেশ অরণ্যকে বলেন, এখানকার জমিগুলো সমতলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময় অনুসারে রোপন করা সম্ভব হয়না। দুই-একমাস দেরীতে রোপন করা হয়।ফলে ঝর-বৃষ্টি, রোদ-মেঘলা ও ঠান্ডার কারনে বিভিন্ন রোগ-বালাই বিশেষ করে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিতে পারে। এবং যারা গরীব কৃষক সেচ ব্যবস্থাপনা করতে পারেন নাই বা সেচ ব্যবস্থাপনা ছাড়া শক্ত পলি মাটিতে এমনিতে রোপন করেছেন তাদের ফসল একেবারে মরে গেছে। যদি ধানের রোগের সম্পর্কে কেউ বুজতে না পারে তাহলে প্রয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা দেশ অরণ্যকে বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ এবং বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। তাই আমাদের বিলাইছড়ি উপজেলার জলেভাসা জমিদের কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থা থেকে আরো উপযোগী করতে হলে কোথায় কি প্রয়োজন, সে প্রয়োজন অনুযায়ী সকলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, এসব এলাকায় বা জলেভাসা জমিতে প্রতিবছর জুন- জুলাই মাসে পানি আসে এবং ডিসেম্বর জানুয়ারীতে কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যায়। ফলে ভেসে ওঠে কৃষিজমি। তাই ধান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে কৃষকরা। বছরে একবার সবেমাত্র চাষ করতে পারে কৃষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ
error: