মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

‘বাবু মারমা’র বিস্ময়কর কলা-কৌশল

কিকিউ মার্মা, বান্দরবান
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৬০ পাঠক সংখ্যা

বান্দরবান সদরের বাঘমারা উপজেলার বাসিন্দা উসাইনসিং মারমা (বাবু)। সে বাঘমারা জুনিয়র হাইস্কুলে দশম শ্রেণীর ছাত্র। বাঘমারা বাজারের এক চিপাগলিতে তার বেড়ে ওঠা। কোন রকম ছোট পরিসরে পাহাড়ীদের খাদ্য সরবরাহের দোকান পরিচালনা করে তাদের ভরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছে তার মা-বাবা। অভাব-অনটনের সংসারে তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে তার বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান।
অদ্ভূত শারীরিক কসরতের মধ্য দিয়ে মানুষকে অবিশ্বাস্য করে তুলেছে বাঘমারার বাবু মারমা নামের এই বালকটি। পাহাড়ে সবাই তাকে এক বিস্ময় বালক নামে চেনে। তার এক্টিভিটিস দেখার জন্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে এসে প্রায়ই ভীড় জমায় বাঘমারা বাজার নদীর চড়ে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে।
কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুধুমাত্র ইউটিউব এর ‘আন্না’ নামের কানাডিয়ান এক জিমন্যাস্টিকের ভিডিও দেখে নিজ প্রচেষ্টায় আয়ত্ত্ব করে নিয়েছে এমনসব শারীরিক কলাকৌশল। কিন্তু এই অসাধ্য সাধন তৈরি হয়ে ওঠা সফল হয়েছে একমাত্র বর্তমান ডিজিটেল যুগের ইন্টারনেটের কল্যাণে। বাবু মারমা তার নিজ চর্চার কথা তুলে ধরে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, টিভিতে একদিন ইংলিশ মুভি দেখছিলাম। হঠাৎ ওই মুভিতে একজন বিদেশী নারী তার শরীরটিকে ফ্লেক্সিবল করে ফেলে। অবাক চোখে তাকিয়ে শুধু চিন্তা করেছি, মানবদেহকে কি এভাবে নিজের ইচ্ছে মতো বাঁকানো আর ভাঙ্গা যায়। তখন থেকে আগ্রহের সাথে চর্চা শুরু করি।
তার স্বপ্নের প্রসঙ্গে বাবু মার্মা বলেন, “ভবিষ্যতে একজন প্রফেশনাল জিমন্যাস্টিক হয়ে, আমার এই ট্যালেন্টকে সবার সামনে দেখাতে চাই। এটাও দেখাতে চাই, বাংলাদেশেও যে এরকম একজন ফ্লেক্সিবল বয় আছে। আর ভবিষ্যতে যদি সুযোগ হয়ে ওঠে তাহলে নিজস্ব ক্লাব খুলে অন্যদেরকে ও শিখাতে চাই।”

বড় বোন শৈ সাইন ওয়াং (বিউটি) বলেন, আমার ভাই নদীর পাড়ে চর্চা করার সময় তার ভিডিও ও ছবি ধারণ করে তা ফেইসবুকে আপলোড করি। ছবিগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে, তা ভাইরাল হতে শুরু করে।

বালকটির বাবা চাহ্লা প্রু মারমা বলেন, তিন ভাই-বোনের মধ্যে ছোটবেলা থেকে বাবু কেমন যেন অন্যরকম। ২০১৮ সালের শেষদিকে বিকেলে স্কুল ছুটির পর নিজের রুমে ঢুকে বিভিন্ন রকম ফ্লেক্সিবল ব্যায়াম করতে থাকে। হাড় ও রগে আঘাত পাওয়ার ভয়ে আমরা অনেকবার এসব করতে নিষেধ করেছি। কিন্তু এভাবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিবে আমরা কল্পনাও করিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে আমার বিশ্বাস, আমার ছেলে ভবিষ্যতে একজন ভালো মানের জিমন্যাস্টিক বয় হিসেবে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে।
প্রতিবেশী মনিকা তংচঙ্গ্যা বলেন, ইদানিং বাবু মার্মাকে নিয়ে ইউটিউব ও ফেইসবুকে লেখালেখি হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সরকারিভাবে তাকে যদি উন্নতমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা প্রদান করা হয়, তাহলে সামনে আরো ভালো করতে পারবে বলে মত দেন।
এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী জানান, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদের সমন্বয়ে সকলের প্রচেষ্টায় তাকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বত্র চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ
error: