বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

দাম ও ক্রেতার অভাবে হতাশ আম চাষীরা

কিকিউ মারমা।
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০
  • ৩০১ পাঠক সংখ্যা

বান্দরবানে পাহাড়ের ঢালুতে রাংগোওয়ে আম চাষ হয় বেশি। যার বাংলা নাম বুক ফাটা আম। আমের এই জাতটি বান্দরবানের থানচি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে এদেশে প্রবেশ করেছে।

এই বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছরে বান্দরবানে স্থানীয় রাং গােওয়ে আমের বাম্পার ফলন হলেও করোনা প্রার্দুভাবের কারণে অন্যত্র জেলা হতে আসা আড়তদারদের অভাবে প্রান্তিক চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফল রাং গোওয়ে আমের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই বছর করােনার জলোচ্ছ্বাসে ভেস্তে গেছে কষ্টের ফসল, সব পরিশ্রম। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাগান মালিকরা।

বান্দরবান শহরের ফারুক পাড়া, লাইমি পাড়া, শৈল প্রপাত, গেসমনি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার চারপাশে চোখ জুড়ানাে আমের বাগান। বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে ঝুলতে দেখা গেছে আম। চাষীরা গাছ থেকে আম পেড়ে সংরক্ষণ করতে শুরু করেছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত ০৯ জুন বান্দরবান সদর উপজেলা, রুমা, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ পাঁচ উপজেলাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন। এতে দূর দূরান্তের ব্যবসায়ীরাও জেলা শহরে আসতে পারছেনা। সময় পেরিয়ে গেলে অনেক আম নষ্ট হয়ে লোকসানের আশংকা করছেন বাগান মালিক ও মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা।

শৈল প্রপাতের আম চাষী লালু বম বলেন, প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক টন আম এই এলাকায় বেচাকেনা হয়। প্রথম দিকে আচারের জন্য কিছু কাঁচা আম বিক্রি করেছি, প্রতি মণ ৬’শ টাকা করে। করােনা সব লন্ডভন্ড করে ফেলেছে। আম বাগান পরিচর্যা করতে যে খরচ হয়েছে সেই খরচও আসবে না।

ফারুক পাড়ার আরেক আম চাষী টনদির বম জানায়, গত বছরে প্রতি মণ ১হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে রাং গােওয়ে আম বিক্রি করেছি। এবারে কোন ক্রেতা বা ব্যাপারীর হদিস পাচ্ছি না। তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটতে হচ্ছে।

স্থানীয় আম ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, এবারে আম্পান ঘূর্ণিঝড়ে ঝরে পড়া দিনাজপুরের আম কম দামে বান্দরবান শহরে ছেয়ে গেছে। তাছাড়া বালাঘাটা চড়ুই পাড়া, উজিমুখ পাড়া থেকে স্থানীয় চাষীদের কাছ থেকে পাহাড়ি রাংগােওয়ে আম ৪’শ টাকা করে প্রতি মণ কিনেছি। লকডাউনের কারনে মজুরি ও গাড়ীভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তেমন সুবিধা করতে পারছি না।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, গত বছর বান্দরবান জেলায় ৭হাজার ৩৪০ হেক্টর এবং এ বছর ৭হাজার ৫শ হেক্টর এলাকাতে আম চাষ হয়েছে। আমাদের ধারণা ১লক্ষ মেট্রিক টন আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত ৩১ তারিখে গণপরিবহন কিছুটা শিথিল করার পর বেশ কিছু কাঁচা আম বিক্রিও হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমের ফলন ভালো হলেও এই বছর করোনায় উৎপাদিত ফলন বিক্রি করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে চাষীরা। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় হতে ফুড ফর ন্যাশন একটা এ্যাপস তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবে। এছাড়া করোনার কারণে যদি আম বিক্রি করতে না পারলে সেক্ষেত্রে কৃষি প্রণোদণা দেয়ার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ
error: